
ফেইসবুক ফ্যান পেজ http://
facebook.com/
joshim.bhaluka.3 .বেশি বেশি ভুতের গল্প
পরুন আর ভয় পেতে থাকুন।
রক্ত পিপাসা [১ম পর্ব]
►◄►◄►◄►◄►◄►◄►◄► ◄►
Wapsiter er ভৌতিক
আশরে স্বাগতম
►◄►◄►◄►◄►◄►◄►◄► ◄►
গহর মামা আমাদের খুব দুর সম্পর্কের
মামা; কিন্তু আপন মামাদের থেকে তাঁর
সঙ্গে আমাদেরবেশি খাতির ছিল।
আমি যখনকার কথা বলছি, তখন
ভদ্রতার ব্যাপার-স্যাপার
গুলো সেভাবে চালু হয় নাই। হাঁচি দিয়ে কেউ
‘এক্সকিউজ মি’ বলত না, চা-
নাশতা খেয়ে কেউ ‘থ্যাংকু’ বলত না।
পেটভরে খেয়ে সবাই ‘ঘেউক’ করে বিকট
শব্দ করে ঢেকুর তুলত এবং সে জন্য কেউ
তার দিকে ভুরু কুঁচকে তাকাত না। এখন
যে রকম কেউ আগে থেকে খোঁজখবর
না দিয়ে আসে না, তখন সে রকম ছিল
না−আত্মীয়স্বজন দুইটা মুরগি, না হয়
এক জোড়া নারকেল নিয়ে রাত-
বিরেতে চলে আসত।
আমাদের গহর মামাও সে রকম
চলে আসতেন−অন্য কেউ
এলে আমরা যেটুকুখুশি হতাম, গহর
মামা এলে তার চেয়ে অনেক
বেশি খুশি হতাম। কারণ গহর মামা খুব
সুন্দর গল্প করতে পারতেন। তাঁর
নানা রকম গল্প ছিল। কিছু গল্প ছিল খুব
হাসির। আজকালকার
ছেলেমেয়েরা শুনলে নিশ্চয়ই নাক-মুখ
কুঁচকে বলবে, ‘হাউ ডার্টি’। কিন্তু
আমরা শুনে হেসে কুটি কুটি হতাম। কিছু
কিছু গল্প ছিল বিচিত্র।
ডাকাতেরা এসেছে এবং গৃহস্থরা কীভাবে সেই
ডাকাতদের ধরে ফেলছে−সে রকম গল্প।।
কিছু কিছু গল্প ছিল ভয়ংকর। গরুচোরদের
ধরেকীভাবে খেজুর কাঁটা দিয়ে তার চোখ
গেলে দেওয়া হচ্ছে তার বীভৎস বর্ণনা।
তবে গহর মামার সবচেয়ে মজার গল্প
হচ্ছে ভুতের গল্প। আমরা ভয় পাব
বলে ভুতের গল্প বেশি বলতে চাইতেন না,
অনেক জোরাজুরি করলে একটা-
দুইটা বলতেন; সেগুলো শুনে ভয়ে আমাদের
পেটের ভাত চাল হয়ে যেত!
গহর মামার কাছে শোনা একটা ...
...গল্প ছিল এ রকম−তাঁর নিজের
ভাষাতেই বলি: এখন যে রকম
নানা ধরনের স্কুল আছে−কোনোটা বাংলা,
কোনোটাইংরেজি, আমাদের সময় সে রকম
কিছুছিল না। দশ-বিশ মাইলের
মধ্যে কোনো স্কুল খুঁজে পাওয়া যেত না।
বেশির ভাগ মানুষ লেখাপড়াই করত না।
লেখাপড়ার কোনো দরকারও ছিল না। খুব
যদি কারও লেখাপড়ার শখ হতো,
সে কোনো মক্তব, না হয় মাদ্রাসায়
পড়ত। আমার নিজের লেখাপড়া করার
কোনো ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু আমার বাবার
খুব শখ ছেলেকে মাওলানা বানাবেন। তাই
একদিন আমাকে ধরে জোর
করে নিয়ে একটা মাদ্রাসায়
ভর্তি করিয়ে দিয়ে এলেন। সেই মাদ্রাসায়
থাকা, খাওয়া, লেখাপড়া সবকিছু।
মাদ্রাসার বড় হুজুরের নাম করিমুল্লা।
শক্ত পেটা শরীর, মুখেলম্বা দাড়ি, মাথায়
সাদা পাগড়ি। http://joshim.wapdale.com
বাবা চলে আসার সময়
করিমুল্লা হুজুরকে বলে এলেন, ‘হুজুর
আমার
ছেলেকে আমি আপনাকে দিয়ে গেলাম।’
হুজুর বললেন, ‘তোমার কোনো চিন্তানাই।
আমি তোমার ছেলেরে মানুষ করে ফেরত
দিব।’
বাবা বললেন, ‘হুজুর, খালি চামড়াটা দিলেই
হবে। আমার ছেলেরহাড্ডি আর মাংস
আপনার খেদমতের জন্য। মানুষ করার
জন্য হাড্ডি-মাংস ছেঁচে ফেলেন, আমার
কোনো আপত্তি নাই।’
সেই যুগে সবাই জানত, যে হুজুর যত শক্ত
পিটুনি দিতে পারেন তাঁর ছাত্র তত
ভালো লেখাপড়া করতে পারে।
করিমুল্লা হুজুরের মারপিটের অনেক সুনাম
ছিল, অনেক দুর থেকে মারপিটের শব্দ
শোনা যেত। তাই দুর দুর থেকে বাবা-
চাচারা তাঁদের ছেলেদের এই মাদ্রাসায়
ভর্তি করে দিয়ে যেতেন।
যা-ই হোক, বাবা কিছু ভালোমন্দ উপদেশ
দিয়ে চলে গেলেন। আমার ইচ্ছা হলো ডাক
ছেড়ে কাঁদি। কিন্তু কেঁদে লাভ কী, আমার
কান্না শুনবে কে? মাদ্রাসায় মতিনের
সঙ্গে আমার পরিচয় হলো। সে আমার
পিঠে হাত দিয়ে বলল, ‘ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ
করে খামোখা কাঁদবি না। তোর ...
...কান্না কেউ শুনতে পাবে না। যদি আস্ত
থাকতে চাস, তাহলে রেডি হ।’
আমার মাদ্রাসার জীবন শুরু হলো। হুজুর
করিমুল্লা ছাড়া মাদ্রাসার আরও দুইজন
শিক্ষক আছেন, তাঁরা একে অন্যের
সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে ছাত্রদের
পেটান। প্রথম প্রথম
আমরা পিটুনিখেয়ে গলা ছেড়ে কাঁদতাম,
ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে গেল। মাদ্রাসার
অন্য ছাত্রদের সঙ্গে পরিচয় হলো।
সারা দিন আমরা হাদিস শরিফ, ফিকাহ
মুখস্থ করি; রাতের বেলা যখন কেউ
থাকে না, তখন আমরা নানা রকম
দুষ্টুমি করি।
এভাবে কয়েক বছর কেটে গেল।
লেখাপড়া খুব একটা শিখি না, সুর
করে আরবি পড়তে পারি, দুই-
চারটা সুরা মুখস্থ হয়েছে, কোন কাজ
করলে কী রকম গুনাহ হয় আর তার জন্য
দোজখের আগুনে কত দিন ধরে পুড়তে হয়,
সেগুলো মোটামুটি জেনেছি।
এ রকম সময়ে একদিন একটা ঘটনা ঘটল।
ঘটনাটার কথা বলার আগে হুজুর
করিমুল্লার আরেকটা কথা বলা দরকার।
ছাত্রদের পিটিয়ে মানুষ করা ছাড়াও তাঁর
আরও একটা বিষয়ে সুনাম ছিল,
সেটা হচ্ছে জিন-ভুতের চিকিৎসা।
আজকালকার দিনে লোকজনের ওপর জিন-
ভুতের সেই রকম আছর হয় না, আমাদের
সময় সেটা ছিল একটা নিয়মিত ঘটনা।
এমন কোনো বাড়ি ছিল না যে বাড়িতে দুই-
চারজন বউ-ঝিকে জিনেধরত না। হুজুর
করিমুল্লা সেসব জিন-ভুতে পাওয়া রোগীর
চিকিৎসা করতেন।
চিকিৎসাটা ছিল মোটামুটি সহজ। বিড়বিড়
করে কিছু দোয়া-দরুদ পড়া আর
রোগীটাকে অত্যাচার করা। http://joshim.wapdale.com
কঠিন কঠিন অত্যাচার−যে রকম মাঘ
মাসের শীতে পুকুরের পানিতে একশ
একবার ডুব দেওয়া, কাঁচামরিচ
বেটে চোখের মধ্যে ডলে দেওয়া,
শুকনা মরিচ পুড়ে নাকের
মধ্যে ধোঁয়া দেওয়া, আর মাদার
গাছে বেঁধে বড়ইগাছের ডাল
দিয়ে পেটানো−এগুলো তো আছেই। সেই
ভয়ংকর অত্যাচারে জিন-ভুতের বাবার
সাধ্য আছে থাকে? জিন-
ভুতেপাওয়া রোগীকে ...
Next Part 2